Last Update

Wednesday, August 20, 2014

সরকারকে কর দেবেন না : ইমরান

পাকিস্তানে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে জনগণের উদ্দেশে সরকারকে কর পরিশোধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। ডন নিউজ পিটিআই ও পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক-ই (পিএটি) শুরু করা যুগ্ম আন্দোলনে রোববার প্রচুর জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। এ দিন ইমরান জনতার উদ্দেশে তার বক্তৃতায় বলেন, ‘কর দেবেন না... বিদ্যুৎ বিল দেবেন না... জিএসটি দেবেন না। যতক্ষণ না নওয়াজ (পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী) পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ এসব কর দেয়া বন্ধ রাখুন।’ তিনি বলেন, ‘আমি এটা আমার জন্য করতে বলছি না... আপনাদের জন্য করতে বলছি।’
কর না দেয়ার এ কার্যক্রম ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ সরকারের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এ ক্রিকেট তারকা। এ সময় তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে পদত্যাগের জন্য দুই দিনের সময় বেঁধে দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে প্রধানমন্ত্রী ভবন বরাবর লং মার্চের ঘোষণা দেন তিনি। ইমরান খান দেশটির পুলিশকে সরকারবিরোধী ভূমিকা নেয়ারও আহ্বান জানান। সোমবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে পথে নামা ইমরান খান রোববার অসহযোগ আন্দোলনের এই ঘোষণা দেন। রাজধানী ইসলামাবাদের আবপারা চকে অবস্থান নেয়া হাজারো নেতাকর্মীর উদ্দেশে দেয়া বক্তৃতায় ইমরান বলেন, ‘আমার জন্য নয়, আপনাদের জন্য আমি এই জন-অসহযোগ ডেকেছি। আমরা ট্যাক্স, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল দেব না।’ নওয়াজকে ইঙ্গিত করে পিটিআই প্রধান বলেন, ‘এই ব্যবসায়ীদের হাতে, যারা কেবল নিজেদের জন্য অর্থ বানাতে চায়, পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও রোববার পিটিআই ও পিএটির সমর্থকরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে, পাকিস্তানে ‘সরকারের প্রতি জনগণের অবাধ্য’ হতে ইমরান খানের আহ্বান মানছে না বিরোধী দলগুলো।
পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পিপিপি ও জামায়াতে ইসলামী এটাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে। রোববার ইমরান খান সরকারকে কর ও অন্যান্য বিল না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বাড়াচ্ছেন। গত পাঁচ দিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করছে ইমরান খান ও তাহির-উল কাদরির সমর্থকরা। পিপিপি নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, ‘ইমরানে গণঅবাধ্যতার আহ্বান গণতন্ত্র ও জাতির জন্য কোনো কাজে আসবে না।’ রাজনৈতিক সমাধানের জন্য অর্থপূর্ণ সংলাপের কথা বলেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর আমীর সিরাজুল হক সরকার ও ইমরান তাহিরের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন যে কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমরা।’

Post a Comment

 
Back To Top