Last Update

Wednesday, September 23, 2015

নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন ভারত?

দীর্ঘ বিলম্বের পর অবশেষে নেপালের পার্লামেন্টে গত রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংবিধান গৃহীত হয়েছে। দেশে ব্যাপক মতবিরোধের সৃষ্টি করে এ সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও কিছুটা তিক্ততার সূচনা করেছে এ সংবিধান গৃহীত হওয়ার বিষয়টি। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর দেশ নেপাল নতুন সংবিধান অনুযায়ী এখন ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র। কেন্দ্রশাসিত সাতটি প্রদেশে বিভক্ত হচ্ছে দেশটি। এ ছাড়া নতুন সংবিধানে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, প্রাচীন যুগ থেকে প্রচলিত ধর্ম ও সংস্কৃতির সুরক্ষা, ধর্মান্তরকরণে নিষেধাজ্ঞা, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি বিষয়। নেপালের নতুন সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কয়েক দশক ধরেই অন্যতম সমর্থনকারী দেশ ভারত। কিন্তু দেশটির নতুন সংবিধানের বিষয়ে ভারতের মত হলো, এটা যথেষ্ট ব্যাপকভিত্তিক হয়নি। ভারত উদ্বিগ্ন যে সংবিধানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার আঁচ ছড়াতে পারে ভারতের ভেতরেও। নেপালের গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহে ভারতের প্রতিক্রিয়া সত্যিই উল্লেখ করার মতো। নতুন সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হওয়ার কয়েক দিন আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করকে নেপাল পাঠান। ধারণা করা হয়, জয়শঙ্কর নেপালের সরকারকে পার্লামেন্টে সংবিধানটি অনুমোদন করার বিষয়টি বিলম্বিত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
একই সঙ্গে সংবিধানের বিরোধিতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানান। ভারতের গণমাধ্যমে এ রকম খবর প্রচারিত হয় যে কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নেপালের পার্লামেন্টে সংবিধান গৃহীত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে। সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নয়াদিল্লির অসন্তুষ্টির কথা প্রধানমন্ত্রী কৈরালাকে জানান ওই রাষ্ট্রদূত। নেপালের পার্লামেন্টে সংবিধান গৃহীত হওয়ার পরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ‘ভারতের সীমান্তসংলগ্ন নেপালের কিছু এলাকার পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি।...মতদ্বৈধ থাকা বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানাই।’ ভারতের উদ্বেগের কারণ সীমান্তসংলগ্ন তেরাই এলাকায় নতুন সংবিধান নিয়ে ব্যাপক সহিংস প্রতিক্রিয়া। ওই অঞ্চলের বাসিন্দা জাতিগত মদেশি ও থারু সংখ্যালঘুরা নতুন সংবিধান নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, প্রদেশে ভাগ হয়ে গেলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়বে। মদেশি ও থারু জনগোষ্ঠী মিলে নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ। মদেশিদের সঙ্গে ভারতের কিছু মানুষের জাতিগত ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের বিশ্লেষক অধ্যাপক এসডি মুনি বলেন, ‘ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি যথার্থ। তেরাই এলাকা সহিংস হয়ে উঠলে তা ভারতেও ছড়িয়ে পড়বে।’

Post a Comment

 
Back To Top