Last Update

Monday, October 19, 2015

পশ্চিম তীরে উদ্বাস্তু শিবিরে অভিযান

পশ্চিম তীরে উদ্বাস্তু শিবিরে ইসরায়েলি সেনা অভিযান
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের একটি উদ্বাস্তু শিবিরে গতকাল রোববার অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় সশস্ত্র ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে শিবিরটির তিনজন বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হয়। গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকজনকে। ইসরায়েলের একটি শহরে গতকাল সন্দেহভাজন এক ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এসব স্থানে গতকাল থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। খবর এএফপি ও আল-জাজিরার। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সহিংসতা-উত্তেজনা বেড়ে চলার মধ্যে গতকাল সকালে পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া উদ্বাস্তু শিবিরে প্রবেশ করে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। একই দিন পশ্চিম তীরের ইহুদিদের ধর্মীয় স্থান ‘জোসেফের মাজার’-এর কাছে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা।
কয়েক দিন আগে ওই মাজারে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা। কালান্দিয়া উদ্বাস্তু শিবির বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রে থাকা পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের রামাল্লার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। গতকালের এ সংঘর্ষের আগের দিন শনিবার পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি সেনা ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এর মধ্যে কয়েকজন নিহত হয় ছুরি নিয়ে ইসরায়েলিদের হামলার চেষ্টা করার সময়। জেরুজালেমে গত মাসে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভরত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সাম্প্রতিকতম উত্তেজনার শুরু। উত্তেজনার জের ধরে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। পরে এ বিক্ষোভ পূর্ব জেরুজালেম ও হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজাতেও ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে এক ফিলিস্তিনি হত্যার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশ ও চিকিৎসা বিভাগ বলেছে, ওই ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের বিরসেবা শহরের প্রধান বাসস্টেশনে লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এতে পাঁচজন আহত হয়। ইসরায়েলি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আর চিকিৎসা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ওই ঘটনায় আহত পাঁচজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। সহিংসতা শুরুর পর ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে ইহুদিদের ওপর হামলাকারী, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী ও পথচারী। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনিদের তৃতীয় ইন্তিফাদা বা গণ-অভ্যুত্থান শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সময় ফিলিস্তিনিদের হামলায় নিহত হয়েছে সাত ইসরায়েলিও।

Post a Comment

 
Back To Top