Last Update

Saturday, October 31, 2015

মিয়ানমারে মুসলিমদের ভোটার করতে আহ্বান জাতিসংঘের

মিয়ানমারে সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু মুসলিম ও অভিবাসীদের ভোটার করতে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের তদন্তকারী দল। মিয়ানমারের মানবাধিকার কর্মী ইয়াংহি লি তথ্য উপাত্ত ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ওয়াশিংটনে পোস্টের বরাতে শুক্রবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ডন। দেশটিতে নভেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী ইয়াংহি লি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা নির্বাচনে অযোগ্য নির্বাচিত হয়েছে তাদের স্বাধীনভাবে রিভিউ করার সুযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে দু’জন মুসলিম রয়েছেন যারা বর্তমানে দেশটির সংসদ সদস্য বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, নভেম্বরের আট তারিখে যে নির্বাচন হবে তা মিয়ানমারের গণতন্ত্রের জন্য একটি মাইলফলক। কিন্তু নির্বাচনে সবাই অংশ না নিলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ হবে নির্বাচনের পরিবেশ কেমন তার উপর। এছাড়া সবাই যদি নির্বাচনে অবাধভাবে অংশ নিতে পারে তবেই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা অংশ নিতে না পারলে তারা এর স্বাদ অনুভব করতে পারবে না। তিনি জানান, রাখাইনে বসবাস করা ৭ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা যারা চীন এবং ইন্ডিয়া থেকে এসেছে তাদের অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিল। তারা ২০১০ এবং ২০১২ সালের নির্বাচনে ভোটও দিয়েছিল। কিন্তু মার্চে তাদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর নতুন করে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তারা ভোট দিতে পারবেন না। রাখাইনে যেসব রোহিঙ্গারা বাস করে তাদের বাংলাদেশী বলে মনে করে দেশটি সরকার এবং তাদের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমালোচনামূলক বলে মনে করেন লি। তাদের অধিকার চর্চা তাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গ্রেফতার, কয়েদ করে রাখা, মত প্রকাশের, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সমিতির জন্য পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান লি। তবে মিয়ানমারের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও টিন লি’র প্রতিবেদনকে বেঠিক এবং বিকৃত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ।
সুচির দলের প্রার্থীর ওপর হামলা
মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় অং সান সুচির দলীয় এক প্রার্থীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তার নাম নাইং গ্যান লিন। তাকে তোলোয়ারের আঘাতে আহত করে এক হামলাকারী। তবে ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নিশ্চিত করেছে যে, আহত এমপি এখন আশংকামুক্ত রয়েছেন। শুক্রবার দলটির পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়েছে। মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটল। খবর বিবিসি, এএফপি। বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াঙ্গুনের থারকেতা শহরে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় এ হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী অপর এনএলডি প্রার্থী থেত তার উই ইউন বলেন, ‘এক ব্যক্তি এনএলডি’র এক সদস্যকে ঘুষি মারতে থাকেন। এরপর জনতা তাকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি একটি বড় ছোরা নিয়ে ফিরে আসেন।’ তিনি জানান, নাইং গ্যান লিন তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় অন্তত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছাত্র নেতা গ্রেফতার : মিয়ানমারে এক ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গত মার্চ মাসে বিক্ষোভের ডাক দেয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। সেখানে শিক্ষা সংক্রান্ত বিক্ষোভ-সমাবেশকে কেন্দ্র করে এটি হচ্ছে সর্বশেষ আটকের ঘটনা। এর আগে এ ধরনের ঘটনায় অনেককে গ্রেফতার করতে দেখা যায় এবং এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠে। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় লাতপাদান শহরে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সাত মাস আগে ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভের ঘটনায় অল বার্মা ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট ইউনিয়নসের সভাপতি কিওয়ান কো কোকে গ্রেফতার করা হয়।

Post a Comment

 
Back To Top