Last Update

Monday, October 26, 2015

অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার বিচারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে। আর অবকাঠামোগত দিকে দিয়ে এশিয়ার ১৩টি দেশেরে মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে। এরমধ্যে অবকাঠমোগতভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এজন্য সার্বিক বিবেচনায় ব্যবসায়িক সক্ষমতায় বাংলাদেশ এশিয়াতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশব্যাংক বলছে, গত কয়েক বছরে সড়ক, রেল ও বন্দর উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, সরকার দেশের অবকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ চার লেন, স্থলবন্দর এবং রেল খাতের উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। খুব শিগগিরই এসব প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথা সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তদারকি করা হচ্ছে। যে কোনো প্রকার অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি জোড়দার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের স্কোর ৭-এর মধ্যে ২ দশমিক ৬। এ অবস্থান এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয়। এক্ষেত্রে নেপাল ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি সব দেশের স্কোর বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। নেপালের স্কোর ২ দশমিক ২। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেগুলোর মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্কোর ৩ দশমিক ৭, শ্রীলংকার ৪ দশমিক ২, ভুটানের ৩ দশমিক ৪, আর পাকিস্তানের অভস্থান ২ দশমিক ৭। আর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ সবাই অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়াতে সর্বনিুে। এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৭ এর মধ্যে ২ দশমিক ৯। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ৫টি দেশের মধ্যে ভারত ও শ্রীলংকার স্কোর ৪ দশমিক ১। নেপাল অবকাঠামোতে পিছিয়ে থাকলেও এ সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। নেপালের স্কোর ৩ দশমিক ৪, ভুটানের অবস্থান ৪ দশমিক ৬, পাকিস্তানের স্কোর ৩ দশমিক ৩। একইসঙ্গে পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থান নিুে।
এর মধ্য দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোর ৩ দশমিক ৯, চীনের ৪ দশমিক ২, থাইল্যান্ডের ৩ দশমিক ৭, ইন্দোনেশিয়ার ৪ দশমিক ১, ফিলিপাইনের ৩ দশমিক ৮, ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৭ ও কম্বোডিয়ার ৩ দশমিক ৩। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৫-১৬ থেকে এসব তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা অনেক দিনের। এ স্থবিরতা না কাটিয়ে উঠার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, বিনিয়োগের তুলনায় অবকাঠামো উন্নয়ন যে হচ্ছে না, তা দৃশ্যমান বাস্তবতা। এর কিছু অংশ অপচয় হতে পারে। অদক্ষতার কারণেও বিনিয়োগের সুষ্ঠু ব্যবহার না হতে পারে। আবার দুর্নীতিও থাকতে পারে। তবে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক তার প্রতিবেদনে বলছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য সামষ্টিক অর্থনীতিতে নীতি সহায়তা দিতে হবে। এজন্য দ্রুত আর্থিক খাতে বেশকিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের গতিশীলতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারূপ করা হয়েছে।

Post a Comment

 
Back To Top