Last Update

Tuesday, October 27, 2015

ভূমিকম্পে উল্টে যেতে পারে ভূত্বক

বড় ধরনের ভূমিকম্পে উল্টে যেতে পারে ভূত্বক। এতে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার এলাকা কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজির (এমআইটি) ভূমি, বায়ুমণ্ডল ও গ্রহবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক দল ভূমিকম্পের প্রভাবের এই তথ্য উদঘাটন করেছেন। গবেষকদলের প্রধান লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সদস্য কেভিন চাও বলেন, ভূমিকম্প পৃথিবীর ভূত্বকের মৌলিক ইলাস্টিক বৈশিষ্ট্য বদলে দিতে পারে। এর ফলে ৬ হাজার কিমি. এলাকা তার স্বাভাবিক চাপগ্রহণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানী দল ২০১২ সালে সংঘটিত উত্তর সুমাত্রা ও ভারত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। চাও বলেন, যখন ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় পরপর ৫.৫ মাত্রার চেয়ে বড় দুটো ভূমিকম্প হয়, তখন পৃষ্ঠ তরঙ্গ আঘাতের বিস্তৃতি জাপানেও পৌঁছে গেছে এবং ভূত্বকের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বদলে গেছে। সে সময় ওই দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৮.৬ ও ৫.৫।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভূমিকম্প ঝুঁকি কেন?
দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ অঞ্চলের ভূ-অভ্যন্তরে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে। সাউথ এশিয়ান ডিজাস্টার নলেজ নেটওয়ার্ক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিধস অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক কারণ কিংবা সাগরতলের চ্যুতির কারণে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের আশংকা প্রবল। ভূ-বিশেষজ্ঞদের মতে গোটা ভূপৃষ্ঠই কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। আবার প্রতিটি স্তর একাধিক প্লেটে বিভক্ত। এসব বিশাল আকারের টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন একের সঙ্গে অপরে ধাক্কা খায় তখন কেঁপে ওঠে মাটির নিচের তলদেশ। কয়েক বছর ধরেই ভূ-গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। সিসমিক প্লেটের ঘূর্ণন সাইকেলের কারণে সব অঞ্চলেই দেড়শ’ বছরের নিয়মিত বিরতিতে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ন্যূনতম একটি ভূমিকস্প আঘাত হানে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যায় উচ্চতর গবেষণার ছাত্র ওয়ারেন ক্যাল্ডওয়েল বলেছেন, ‘ভূমিকম্প সম্পর্কে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। কিন্তু সিসমোগ্রাফের তথ্য জানাচ্ছে, ভূমিকম্পের ঝুঁকির পরিমাণ বেশ বিস্তৃত। যেহেতু, এ অঞ্চল তুলনামূলক বেশি ঘনবসতিপূর্ণ, তাই আগাম সতর্কবার্তা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।’
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, পৃথিবীব্যাপী মাটি খনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূমিকম্পের আশংকা বাড়ছে। তেল, গ্যাস ও সম্পদের অনুসন্ধানে ভূমি খনন ও ভূ-অভ্যন্তরে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার মতো কাজে ভূগর্ভের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগর ও এশিয়ায় দুটি সিসমিক প্লেট রয়েছে। একটির নাম ইউরেশিয়া প্লেট, আরেকটি ইন্ডিয়া প্লেট। হিমালয় এ দুটি প্লেটকে আলাদা করেছে। প্লেট দুটির মিলনস্থলের নামকরণ করা হয়েছে ক্যাসকেডিয়ান সাবডাকশন জোন। দুই প্লেটের মধ্যবর্তী অংশে হিমালয়ের অবস্থান। বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংগঠন জিওহ্যাজার্ডস ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হ্যারি ঘি কয়েক মাস আগে নেপালে ভূমিকম্পের পর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বঙ্গোপসাগরের মাথা ঘেঁষে অবস্থিত বেঙ্গল বেসিনের প্রধান অংশ বাংলাদেশ, যা ইন্ডিয়া প্লেটে উত্তর-পূর্বদেশ নিয়ে গঠিত এবং ইন্ডিয়া-বার্মা-তিব্বত প্লেটের সংযোগস্থলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এরকম ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ ভূমিকম্প ও সুনামির জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে প্রধান চারটি ফল্ট (চ্যুতি) আছে সেগুলোই ভূমিকম্পের উৎসস্থল হিসেবে কাজ করার আশংকা রয়েছে।

Post a Comment

 
Back To Top