Last Update

Wednesday, November 4, 2015

খুলনারই শেষ হাসি

শেষবার খুলনা শেষ হাসি হেসেছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে। দুই মৌসুম পর আবারও শিরোপাসিক্ত হল তারা। আর প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে অবনমন হল গতবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুরের। কারও অবনমন মানেই অন্যের উত্তরণ। সেই সৌভাগ্য হল বরিশালের। তারা দ্বিতীয় স্তর থেকে ওঠে গেল প্রথম স্তরে। জাতীয় ক্রিকেট লীগের ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ডে চারদিনের ম্যাচের শেষদিন ছিল কাল। এদিন চট্টগ্রামে খুলনার প্রথম ইনিংস শেষে ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। খুলনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসব বর্ণিল হয়েছে ইমরুল কায়েসের শতকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দুটি ওডিআইতে সুযোগবঞ্চিত ইমরুল খানিকটা জ্বালা জুড়িয়েছেন ১০৪ বলে ১০৭ রান করে। তার ঝড়ো ইনিংসে ১৩টি চার ও তিনটি ছয়। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন প্রথম ইনিংসে শতক (১০৫) এবং দুটি উইকেট নেয়া রংপুরের তানভির হায়দার। সাত উইকেটে ৩২৪ রান নিয়ে চতুর্থদিনের খেলা শুরু করে রংপুর। তাতে আর ২০ রান যোগ করেই অলআউট হয় তারা ৩৪৪ রানে। পাঁচ উইকেট নেন খুলনার অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। চার উইকেট পান মুরাদ খান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করার সুযোগই পায়নি দু’দল।
প্রথম স্তরে বরিশাল
খুলনার শিরোপা জয়ের দিনে বরিশাল উঠল প্রথম স্তরে। শাহরিয়ার নাফীসের জোড়া শতকে (১৬৮ ও ১৭৪) চট্টগ্রামের বিপক্ষে ড্র হওয়া ম্যাচ শেষে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্তরে সবার উপরে বরিশাল। এ রাউন্ডে তারা প্রথম ইনিংসে লিড নেয়ার সুবাদে প্রথম স্তরে উঠে যায়। এদিকে আগেরদিন সিলেটের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয়ী রাজশাহী দ্বিতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থানে রইল। তাদের পয়েন্ট ৫৪। তৃতীয় স্থানে সিলেট (৩৮ পয়েন্ট)। সবার নিচে থেকে জাতীয় লীগ শেষ করেছে চট্টগ্রাম (৩৫ পয়েন্ট)। মঙ্গলবার বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ৪২৩/৮-এ চতুর্থদিনের খেলা শুরু করে চট্টগ্রাম। প্রথম ইনিংসে ৪৯৮ করা বরিশাল তখনও ৬৬ রানে এগিয়ে। এদিন মাত্র ১৮ বল স্থায়ী হয় চট্টগ্রামের ইনিংস। পাঁচ উইকেট নেন বরিশালের অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী। ৬৪ রানে এগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০৩ রান করে ছয় উইকেটে। এরপরই ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। শামসুরের সেঞ্চুরি টানা তিন দিন বৃষ্টিতে খেলা ভেসে যাওয়ায় ঢাকা ও ঢাকা মেট্রোর ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। কাল শেষদিনে ৭৫ ওভার খেলা হয়। এ সময়েই সেঞ্চুরি করেছেন ঢাকা মেট্রোর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সৈকত আলীকে হারায় ঢাকা মেট্রো। এরপর মেহেদি মারুফকে নিয়ে শামসুর দ্বিতীয় উইকেটে ২০৯ রানের জুটি গড়েন। ১৮২ বলে ১০৫ রান করেন তিনি। ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন মেহরাব হোসেন জুনিয়র। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশে থাকা মেহেদি আহত হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে করেন ৯৯ রান। ঢাকা মেট্রো তিন উইকেটে ২৮৬ রান করার পর ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক।
জাতীয় ক্রিকেট লীগের রোল অব অনার
মৌসুম চ্যাম্পিয়ন
১৯৯৯-২০০০ চট্টগ্রাম
২০০০-২০০১ বিমান বাংলাদেশ
২০০১-২০০২ ঢাকা
২০০২-২০০৩ খুলনা
২০০৩-২০০৪ ঢাকা
২০০৪-২০০৫ ঢাকা
২০০৫-২০০৬ রাজশাহী
২০০৬-২০০৭ ঢাকা
২০০৭-২০০৮ খুলনা
২০০৮-২০০৯ রাজশাহী
২০০৯-২০১০ রাজশাহী
২০১০-২০১১ রাজশাহী
২০১১-২০১২ রাজশাহী
২০১২-২০১৩ খুলনা
২০১৩-২০১৪ ঢাকা
২০১৪-২০১৫ রংপুর
২০১৫-২০১৬ খুলনা
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা ও রংপুর
রংপুর প্রথম ইনিংস ৩৪৪ (ধীমান ঘোষ ৬৯, তানভির হায়দার ১০৫, সোহরাওয়ার্দী শুভ ৬৬। আবদুর রাজ্জাক ৫/১২৭, মুরাদ খান ৪/৬৬)।
খুলনা প্রথম ইনিংস ২৮৬ (ইমরুল কায়েস ১০৭, জিয়াউর রহমান ৬২*। তানভির হায়দার ২/৫৬)। ফল : ম্যাচ ড্র।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তানভির (রংপুর)।
চট্টগ্রাম ও বরিশাল
বরিশাল প্রথম ইনিংস ৪৮৯ (শাহরিয়ার নাফীস ১৬৮, ফজলে মাহমুদ ১৩৩, আল-আমিন ৬০। বেলাল হোসেন ৩/১৩২, নাবিল সামাদ ৪/১০১)।
চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংস ৪২৫ (নাফিস ইকবাল ৫৬, মুমিনুল হক ২৩৯। সোহাগ গাজী ৫/১৩৪, মনির হোসেন ৩/৬৫)।
বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংস ৩০৩/৬ (শাহরিয়ার নাফীস ১৭৪, আল-আমিন ৬৮। ডলার মাহমুদ ২/৩২)।
ফল : ম্যাচ ড্র।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মুমিনুল হক (চট্টগ্রাম)
ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা
ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংস ২৮৬/৩ (শামসুর রহমান ১০৫, মেহেদি মারুফ ৯৯, মেহরাব হোসেন জুনিয়র ৫২*। মাহবুবুল আলম ১/২৭)। ফল : ম্যাচ ড্র।

Post a Comment

 
Back To Top