Last Update

Friday, November 6, 2015

দল জিতলে প্রেসিডেন্টের চেয়েও উপরে থাকব

মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে দল জিতলে ‘প্রেসিডেন্টের উপরে থাকবেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি। বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনে নিজ বাসভবনে সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। রোববারের নির্বাচনের আগে এটি সুচির শেষ সংবাদ সম্মেলন বলে জানিয়েছে মিয়ানমার টাইমস। জান্তা সরকারের প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, দল জয় পেলেও বিদেশী নাগরিককে বিয়ে করার কারণে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না সুচি। এ প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্তব্যটি করেন তিনি। ৫০ বছর ধরে মিয়ানমারে সামরিক একনায়কতান্ত্রিক শাসন চলার পর ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো আধা বেসামরিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এ সরকারের অধীনে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনটিকে মিয়ানমারের চলমান সংস্কারের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে শান্তিতে নোবেল জয়ী সুচি সহজভাবে স্মিত হেসে বলেন, ‘বার্তাটি খুব সহজ। সংবিধান বলে, প্রেসিডেন্টের উপরে কেউ হতে পারে না।
কিন্তু আমি প্রেসিডেন্টের উপরে থাকব।’ সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নির্বাচনে ভালো ফল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালে সামরিক একনায়তন্ত্রের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এনএলডি ব্যাপক জয় পেয়েছিল। ওই সময় সুচি গৃহবন্দি ছিলেন। তারপর থেকে পরবর্তী ২২ বছর ধরে টানা গৃহবন্দি ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তিনি প্রথম থেকেই মুক্তভাবে নির্বাচনী প্র্রচারণায় অংশ নিতে পেরেছেন। রোহিঙ্গা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না : রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে আহ্বান জানিয়েছেন অং সান সুচি। আসন্ন নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে একেবারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এ নেত্রী। এমনটি তার দল থেকে একজন মুসলিমকেও প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। মিয়ানমারে সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুমলিমদের ওপর গণহত্যা চালালেও নিশ্চুপ ছিলেন তিনি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলা করছেন সুচি। সংবাদ সম্মেলনে সুচি বলেন, ‘রোহিঙ্গা নিয়ে বেশি কথা বলার দরকার নেই। আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সমস্যা নিয়ে নাড়াচাড়া না করা। তবে আমি বলছি না যে, এটা একটা ছোট সমস্যা।’ গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইয়ালে ল স্কুল ৮০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। ২০১২ সালের এক দাঙ্গায় অন্তত ২০০ হন নিহত হয় ও ১ লাখ ৪০ হাজার ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।

Post a Comment

 
Back To Top