Last Update

Thursday, November 5, 2015

মিয়ানমারে আরব বসন্তের শংকা

মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ণ প্রক্রিয়ায় ‘আরব বসন্তের মতো রক্তপাত ও চরম বিশৃংখলা’র আশংকা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে থেইন সেইনের পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মিয়ানমারে আরব বসন্ত স্টাইলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী রোববার দেশটির বহুল কাক্সিক্ষত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল যদি পরাজিত হয় তাহলে রক্তপাত দেখা দিতে পারে।
ছড়িয়ে পড়তে পারে আরব বসন্তের মতো বিশৃংখলা। প্রেসিডেন্টের এ সতর্কতা পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর মিয়ানমার টাইমসের। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে ফেসবুকে থেইন সেইনের পেজে প্রকাশ করা ভিডিওটি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে। চার মিনিটের ওই ভিডিওতে জুড়ে দেয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং মিয়ানমারে গণতন্ত্রের পথে ফেরার বিষয়। পাশাপাশি উপস্থাপন করা হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে মিয়ানমারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হতে থাকার সময়ের উন্নয়ন, সঙ্গে রয়েছে আবহসঙ্গীত। দেয়া হয়েছে ভারি মেটাল সাউন্ড। এটি শেষ হয়েছে ‘অনলি হোয়েন পিস প্রিভেইলস উইল ডেমোক্রেটাইজেশন বি ইমপ্লিমেন্টেড’ বা শুধু যখন শান্তি বজায় থাকে তখনই গণতন্ত্রায়ন বাস্তবায়ন হয়। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন একজন সাবেক জেনারেল। সেনাবাহিনী সমর্থিত ইউএসডিপি দলের হয়ে তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন। এই সেনাবাহিনীকে দেখা হয় মিয়ানমারের স্থিতিশীলতার গ্যারান্টার হিসেবে। কারণ তারাই কয়েক দশক ধরে মিয়ানমার শাসন করেছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের পরিচালক জাও হাতায় বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন,
‘গণতন্ত্রের পথে মিয়ানমারের পরিবর্তনই ভিডিওতে প্রকাশ পেয়েছে।’ মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সেনা সমর্থিত দল ইউএসডিপির প্রধান এবং সাবেক স্বৈরশাসক থেইন সেইনের দল কয়েক দশকের সামরিক শাসনের পর নিজেদের মিয়ানমারকে স্থিতিশীল উন্নয়নের দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করছে। জাও হাতায় বলেন, ২০১১ সালে সেনাবাহিনী একটি আধা সামরিক সংস্কারবাদী সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে মিয়ানমার স্থিতিশীল রয়েছে, যেখানে অন্য দেশগুলো এমন পরিস্থিতিতে ‘রক্তপাত, বিস্ফোরণ ও সহিংস আন্দোলনে জর্জরিত’ থাকে। তিনি আরও বলেন, ‘ওই দেশগুলোর তুলনায়, আমরা সবাই জানি যে, আমাদের দেশ ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। এখনই আমেরিকা বা সিঙ্গাপুরের মতো হয়ে উঠতে পারব না আমরা। সে জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’ মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি সরকার পালন করবে না বলে বিরোধীদলীয় নেতা অং সান সুচিসহ অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারী মিয়ানমারের স্থানীয়দের অনেকেই প্রেসিডেন্ট কার্যালয়কে ভিডিও প্রকাশের পর ভণ্ডামির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। বিগত কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের জান্তা সরকার দেশ শাসন করেছে শক্তির প্রচণ্ড অপব্যবহারের মাধ্যমে, ভিন্ন মত প্রকাশের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিল এবং নির্বাচনের বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে গেছে।

Post a Comment

 
Back To Top