Last Update

Tuesday, December 1, 2015

কেরানীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কেমিক্যাল উদ্ধার

দেশকে অস্থিতিশীল করতে যখন বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখন রাজধানীর পাশে কেরানীগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন গোডাউন থেকে ৫২৯ ড্রাম রাসায়নিক কেমিক্যাল উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। বিষয়টি আইনশৃংখলা বাহিনীকেও ভাবিয়ে তুলেছে। আশংকা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব নাশকতার ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে এই কেমিক্যাল মজুদ করার মধ্যে বিশেষ যোগসূত্র থাকতে পারে। এসব কেমিক্যাল ব্যবহার করে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের সময় বড় ধরনের নাশকতামূলক সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টিও তারা উড়িয়ে দিতে চান না। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ড্রামে ভয়ংকর রাসায়নিক কেমিক্যাল রয়েছে। প্রতিটি ড্রামে যে পরিমাণ দ্রব্য রয়েছে তা বিস্ফোরিত হলে ওই এলাকা নিমেষেই ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হবে। এছাড়া এগুলো বহনের সময় রাসায়নিক কেমিক্যাল বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের পরিবেশকেও দূষণ করছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ছাড়াও আইনশৃংখলা বাহিনী ইতিমধ্যে এর পেছনে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে।
ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণকিত্তা এলাকায় অবস্থিত গোডাউনটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। জব্দ করা বিস্ফোরকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে মিথাইলিন ক্লোরাইড ২২ ড্রাম, গ্লিসারিন ৫২ ড্রাম, ড্রাই ইথাইল গ্লু ক্রাইড ৫৬ ড্রাম, ডাইক্লো মিথেন ৩২১ ড্রাম, অন্যান্য রাসায়নিক কেমিক্যাল ৭৮ ড্রাম। এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ঢাকার সহকারী পরিচালক মো. তারেক মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মেসার্স সাইজু এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটির গোডাউনে অভিযান চালান। এরপর সেখান থেকে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। তিনি জানান, গোডাউনটি সিলগালা করার পাশাপাশি এসব রাসায়নিক কেমিক্যালের মালিককে আমদানি ডকুমেন্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব কেমিক্যাল ভারত, চীন ও কোরিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। তবে যে কেমিক্যালের নাম দিয়ে এগুলো আমদানি করা হয়েছে বাস্তবে ড্রামে সেই কেমিক্যাল আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। জানা যায়, সোমবার বেলা ২টার দিকে অভিযান শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তারেক মাহমুদ ও ওমর ফারুক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শিপু সরকার ও সবুজ মিয়া। বেলা ২টার দিকে গোডাউনে প্রবেশ করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের আভিযানিক দল। এ সময় এত বিপুল বিস্ফোরকদ্রব্য দেখে কর্মকর্তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তারা মোবাইলে যোগাযোগ করেন বিস্ফোরকদ্রব্য আমদানিকারক সারফুদ্দিনের সঙ্গে। তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু তিনি নানাভাবে কালক্ষেপণ করে সন্ধ্যার দিকে প্রিন্স নামে তার এক ব্যবসায়িক পার্টনারকে ঘটনাস্থলে পাঠান। কিন্তু এসব কাগজ যথাযথ কিনা তা নিয়ে শুল্ক বিভাগের সন্দেহ হওয়ায় সেগুলো অধিকতর যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শুল্ক বিভাগ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত গোডাউনটি সিলগালা করে দেয়া হয়। এরপর শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পার্শ্ববর্তী গদারবাগে সোনার বাংলা আবাসন প্রকল্পের ভেতর আরও দুটি গোডাউনে অভিযান চালান। গোডাউনের একটির মালিক প্রিন্স। অপরটির মালিককে পাওয়া যায়নি।
প্রিন্সের গোডাউনে নীল রংয়ের কিছু ড্রাম পাওয়া যায়। তবে সেগুলো ছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। এগুলোর মধ্যে থাকা রাসায়নিক কেমিক্যাল আগেই বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মালিক না থাকায় অপর গোডাউনে ঢুকতে পারেননি শুল্ক গোয়েন্দারা। জানা যায়, সারফুদ্দিন ও প্রিন্স নামে দুই ব্যক্তি রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় কেমিক্যালের ব্যবসা করেন। এজন্য তারা বিদেশ থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য আমদানি করেন। আমদানি ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য তারা মজুদ করেছেন। এগুলো অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। আইনশৃংখলা বাহিনী ও চট্টগ্রাম কাস্টমসকে ফাঁকি দিয়ে এসব অতিরিক্ত রাসায়নিক ও বিস্ফোরকদ্রব্য কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গোডাউন বানিয়ে মজুদ করে রাখা হয়- যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সময় সুযোগ বুঝে এসব কেমিক্যাল বাইরে বিক্রি করে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবাসিক এলাকায় এসব বিস্ফোরকদ্রব্য রাখার নিয়ম না থাকলেও আইনশৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা আবাসিক এলাকায় গোডাউন বানিয়ে মজুদ করে রাখছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃংখলা বাহিনীর কেউ কেউ বিষয়টি জানলেও তারা রহস্যজনক কারণে চুপ থাকেন। এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফেরদাউছ হোসেন বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে আমাকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। বিপুল রাসায়নিক কেমিক্যাল মজুদের অভিযোগে একটি গোডাউন তারা সিলগালা করে দিয়েছেন। সেখান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো আসলে কি তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

Post a Comment

 
Back To Top