Last Update

Saturday, October 31, 2015

যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের হুমকি চীনের

দক্ষিণ চীন সাগরের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে যে কোনো সময় যুদ্ধ বাঁধতে পারে। শুক্রবার চীনের নৌ-কমান্ডার অ্যাডমিরাল উ শেঙ্গলি এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে এ হুশিয়ারি দেন। খবর রয়টার্স ও হিন্দুস্থান টাইমসের। ওই ভিডিও কনফারেন্সে চীনা নৌবাহিনী প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী প্রধান জন রিচার্ডসনকে বলেন, ‘যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তবে এটি উভয় রাষ্ট্রের নৌ কিংবা বিমানবাহিনীকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে।
এমনকি তুচ্ছ এ গোড়ামিতে যুদ্ধ পর্যন্ত বেঁধে যেতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার চীনের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস লাসেন নামক এ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজ দক্ষিণ চীন সাগরে প্রবেশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে রুটিন নজরদারি বলে দাবি করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-দফতরের বরাত দিযে রয়টার্স জানায়, ফ্রিডম অব নেভিগেশন ক্ষমতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌ-সীমানার যে কোনো জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ অধিকার রয়েছে। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি মানতে নারাজ। দক্ষিণ চীন সাগরে একটি দ্বীপপুঞ্জের অধিকার নিয়ে চীন আর ফিলিপিন্সের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসা চেয়েছে ফিলিপাইন। কিন্তু, চীনের দাবি বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের অধিকার তাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত। এই বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ তারা মানবে না। আন্তর্জাতিক আদালত অবশ্য চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি নস্যাৎ করেছে। তারপরই ফিলিপিন্সের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। যে অংশকে চীন নিজেদের জলসীমা বলে দাবি করে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হানা দিয়েছে সেখানেই। উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় আমেরিকা ও চীনের নৌবাহিনীর প্রধানরা ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেন। সেখানেই চীনের তরফ থেকে আমেরিকাকে জানানো হয়েছে, এসব ছোটখাটো ঘটনা থেকেই যে কোনো সময় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। চীনের জলসীমা ছেড়ে অবিলম্বে চলে যাওয়া উচিত ইউএসএস লাসেনের। তবে রণতরী ফিরিয়ে নেয়ার পথে এখনই হাঁটতে নারাজ আমেরিকা। ডেইলি মেইল, দ্য গার্ডিয়ান।
দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত দীপপুঞ্জের জলসীমা অধিকার নিয়ে চীন ও ফিলিপিন্সের দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত মীমাংসা করতে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদালত এক শুনানির আয়োজন করে। ওই শুনানিতে বেইজিংয়ের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং পরবর্তী শুনানিতে ফিলিপিন্সের যুক্তি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানায় হেগ ভিত্তিক এ আদালত। খবর রয়টার্সের। এর আগে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবিকে বিরোধিতা করে ২০১৩ সালেই আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ফিলিপিন্স। এ মামলার নথিতে জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্য ল’ অব দ্য সি অনুযায়ী ২০০ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রসীমা দাবি করেছিল ফিলিপিন্স। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে ফিলিপিন্সের পক্ষ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র-চীন টালমাটাল সম্পর্ক : দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজ অনুপ্রবেশ নিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টালমাটাল ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ ২০১৩ সালে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নৌযানের অবস্থান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী জাহাজ তার দিক পরিবর্তন করেছিল। তার ঠিক পরের বছর, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সীমার ৯ মিটারের ভেতর দিয়ে চীনা যুদ্ধ জেট উড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের এক বিবৃতিতে চীনের এমন প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রয়টার্স।
নৌ প্রধানের হুশিয়ারি
যদি যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে তবে এটি উভয় রাষ্ট্রের নৌ কিংবা বিমানবাহিনীকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ফেলবে। এমনকি তুচ্ছ এ গোঁড়ামিতে যুদ্ধ পর্যন্ত বেঁধে যেতে পারে রুশ জঙ্গিবিমানকে তাড়িয়ে দিল মার্কিন রণতরী জাপান সাগরের আকাশে দুটি রুশ জঙ্গিবিমানের গতিরোধ করেছে মার্কিন বিমান। মার্কিন নৌবাহিনী শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা এদিন বলেন, মঙ্গলবার জাপান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস রোনাল্ড রিগানের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে দুটি রুশ জঙ্গিবিমান ঢুকে পড়ে। এ অবস্থায় রুশ বিমানগুলোকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য ওই রণতরী থেকে চারটি এফ-১৮ জঙ্গিবিমান পাঠানো হয়। কোরীয় উপদ্বীপের আগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মার্কিন রণতরীটি দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছিল। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ইউএসএস রোনাল্ড রিগানকে এসকোর্টকারী একটি জাহাজ থেকে প্রথমে রুশ জঙ্গিবিমানগুলোর সঙ্গে রেডিও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া না পাওয়ায় এগুলোর গতিরোধ করতে এফ-১৮ পাঠানো হয়। রাশিয়া ও আমেরিকার নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ এনকাউন্টারের ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

Post a Comment

 
Back To Top