Last Update

Saturday, November 5, 2016

নাসিরনগরে ৩৩ জন আটক

ভাঙচুর করার পাশাপাশি মন্দিরের সব জিনিসপত্র
তছনছ করে দেয় দুর্বৃত্তরা। ফাইল ছবি: শাহাদাত হোসেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু মন্দির, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৩৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত নাসিরনগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম এবং ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সাখাওয়াত হোসেন। গত রোববার নাসিরনগরে হিন্দু মন্দির ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর গতকাল সারা দিন এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তবে হঠাৎ করে এ আগুনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। আর অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা থাকার পরও কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, এ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ। এ মানববন্ধন থেকে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশ বলছে, এ মানববন্ধন না করার জন্য হিন্দু নেতাদের বলেছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হক। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নাসিরনগর ডাকবাংলোয় হিন্দু নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রীর দুই ঘণ্টা বৈঠকও হয়। এর মধ্যেই দিবাগত রাত তিনটার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার: গত রোববারের সমাবেশে লোকজন নিয়ে যোগ দেওয়ার অভিযোগে সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে। বিএনপির প্রতিনিধিদল নাসিরনগরে: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিনের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। হাফিজউদ্দিন এ ঘটনার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

Post a Comment

 
Back To Top