Last Update

Tuesday, April 18, 2017

এই গ্রহ আর কতকাল নিরাপদ আবাস থাকবে?

জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আণবিক বোমা নিক্ষেপের পর ৭১ বছর কেটে গেছে। হিরোশিমা ও নাগাসাকির ধ্বংসলীলা আজও জাপানি নাগরিকদের ভয়ার্ত করে তোলে। হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মারণাস্ত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আণবিক বোমার ব্যবহার আদৌ প্রয়োজন ছিল কিনা তা নিয়ে বিজ্ঞজনরা বারবার প্রশ্নে তুলেছেন। কারণ সেই সময় জাপানের আত্মসমর্পণ ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারপরও আণবিক বোমার ব্যবহার হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে আবিষ্কৃত এ বোমার ধ্বংসলীলা পরীক্ষা করতে চেয়েছিল তৎকালীন মার্কিন শাসকরা।
এ ঘটনার পর বিশ্বে অনেক আণবিক বোমা স্তূপীকৃত হয়েছে, যেগুলোর ধ্বংস করার ক্ষমতা হিরোশিমা-নাগাসাকিতে ব্যবহৃত বোমার চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী। শুধু তাই নয়, এখন বেশকিছু দেশ পারমাণবিক বোমার অধিকারী। দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই কাছে রয়েছে ডজন ডজন পারমাণবিক বোমা। পারমাণবিক বোমার এ বিস্তৃতি বিশ্বকে কতটা নিরাপদ কিংবা অনিরাপদ করে তুলেছে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের জন্য জাতিসংঘের তরফ থেকে আইনি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি কমিশন এ অস্ত্রের কোথাও বিস্তৃতি ঘটছে কিনা তা দেখভাল করে। বিশ্বের অনেক দেশ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর করলেও যারা পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে চেয়েছে বা হতে চাচ্ছে তারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। কোনো দেশ পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে বলে সন্দেহ করা হলে তাদের ওপর নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ইরান। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হল ইসরাইল ইতিমধ্যেই পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়ে গেছে জানা গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে ইসরাইল আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। প্যালেস্টাইনের জনগণের ন্যায্য অধিকারকে প্রতিদিনই ভূলুণ্ঠিত করেছে ইসরাইল। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, ইসরাইল ধীরে ধীরে কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠেছে। একটি অন্যায্য রাষ্ট্রব্যবস্থা কী করে বিশ্ব জনমতকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আরও শক্তিমান হয়ে উঠছে, ইসরাইল তারই দৃষ্টান্ত। পারমাণবিক বোমা এখন আর একটি মাত্র শক্তির মনোপলি নয়। এ মনোপলি ভেঙে যাওয়ার ফলে বিশ্ব অনেকটাই নিরাপদ হয়ে উঠেছে। কারণ দুই বিরোধী পারমাণবিক বোমার অধিকারী দেশ ভালো করেই জানে, তারা যদি একে অপরের বিরুদ্ধে এ বোমার ব্যবহার করে তাহলে উভয়েরই ধ্বংস অনিবার্য। একেই বলা হয় MAD বা Mutually Assured Destruction। এভাবেই তারা যুদ্ধের পথে হাঁটা থেকে বিরত হচ্ছে। অনেকেরই ধারণা উত্তর কোরিয়া তার সমর সম্ভারে শান দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই দেশটি পারমাণবিক বোমা,
এমনকি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফেলেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার জনক কিম উল সুংয়ের জন্মবার্ষিকীতে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে এ হুমকির জবাবে মার্কিন রণতরীকে কোরিয়ার উপদ্বীপসংলগ্ন সাগরের দিকে অগ্রসর হতে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কি বিশ্ব একটি পারমাণবিক যুদ্ধের মুখোমুখি? অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীনকে অনুরোধ করেছেন উত্তর কোরিয়াকে নিবৃত্ত করার জন্য। উত্তর কোরিয়া চীনের মিত্র হলেও তার সামরিক সাজসজ্জা চীনকে উদ্বিগ্ন করে। কারণ তার সীমান্তবর্তী এই দেশটিতে ভয়াবহ কিছু ঘটলে চীনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হতে পারে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় প্রাণ বাঁচানোর জন্য চীনে প্রবেশ করবে। সেজন্য চীন উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। চীন এখন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ অবস্থায় তার দৃষ্টিতে প্রতিবেশী দেশে পারমাণবিক হামলা তার নিজের নিরাপত্তাকেই বিঘ্নিত করবে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ষাটের দশকে একটি পারমাণবিক সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছিল কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে। সেই সময়েও বিশ্ববাসী চরম আতংকিতবোধ করেছিল। তখন বিশ্বখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল উভয়পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান। এর ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা প্রশমিত হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবা থেকে মিসাইল প্রত্যাহার করে নেয়। সেই থেকে আজকের দিন পর্যন্ত বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে নিরাপদ থেকেছে। এখন প্রশ্ন উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কী ঘটতে পারে? উত্তর কোরিয়াই বা এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কেন?
খোলাখুলি মূল মার্কিন ভূখণ্ডে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে উত্তর কোরিয়া কী অর্জন করতে চায়। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বে যিনি আছেন তিনি বয়সে নবীন। অনেকেই মনে করেন, তার ম্যাচিউরিটির অভাব আছে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ায় অনেক প্রবীণ নেতা আছেন। তারা কি তাদের অল্পবয়সী নেতাকে বোঝাতে পারছেন না? অথবা উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থাটি এমন যে সেখানে সর্বোচ্চ ব্যক্তির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ সম্ভব নয়। এছাড়া উত্তর কোরিয়ায় এক ধরনের পারিবারিক শাসন জেঁকে বসেছে। এটাকে পরিবারতন্ত্র না রাজতন্ত্র বলে আখ্যায়িত করা হবে, সেটাও পরিষ্কার নয়। কমিউনিজমের ভাবাদর্শের সঙ্গে কী করে উত্তরাধিকারতন্ত্র সম্মিলিত হয়েছে, সেটাও এক বিস্ময়! আবার অন্যদিকে এক ধরনের স্পার্টান জীবনযাত্রা সংবলিত সমাজতন্ত্রও সে দেশে চালু আছে। পশ্চিমা বিশ্ব প্রায়ই বলে থাকে উত্তর কোরিয়ায় দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছে। অনেক মানুষ খাদ্যাভাবে মৃত্যুবরণ করছে। এসব সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তার সমরসজ্জা বৃদ্ধি করার জন্য কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করছে সেটাও এক বিরাট প্যারাডক্স। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মার্কিন মিডিয়াতে মন্তব্য করা হয়, তার কর্মকাণ্ড খামখেয়ালিপূর্ণ। তিনি চিন্তা-ভাবনায় সংযত নন, বরং খেয়ালের বশবর্তী হয়ে অনেক কাজই করছেন। একদিকে একজন অপরিণত বয়স্ক নেতা এবং অপরদিকে একজন খেয়ালের বশবর্তী নেতা- এরকম ক্ষেত্রে বিপজ্জনক কিছু ঘটে যেতে পারে!
কেউ কি দেখেছেন কোনো অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি আগুনে হাত দিয়েছে? সেরকম ব্যক্তি উলঙ্গ হয়ে চলাচল করতে লজ্জাবোধ না করলেও এটুকু বুঝে আগুনে হাত পুড়ে যায়। উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে কোনোরকম মহাবিপদ হবে না, সেটুকু আমরা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির আচরণ-ধর্ম থেকে বুঝতে পারি। আপাতত এটুকুই হোক আমাদের স্বস্তির কারণ। উত্তর কোরিয়া আসলে কী চায়? এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়া বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জ্বালায় ভুগছে। দেশটি পরাশক্তি আমেরিকাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বেশকিছু ছাড় আদায় করে নিতে চায়। অতীতে শান্তি আলোচনায় যোগ দেয়ার নজিরও দেশটির আছে। কখনও কখনও দুই কোরিয়ার মধ্যে বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোকে মিলিত হওয়ারও সুযোগ দেয়ার দৃষ্টান্ত দেশটি স্থাপন করেছে। দুই কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনাও নেই বললেই চলে। তবে দক্ষিণ কোরিয়াতে মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রাখার সে ঘোরবিরোধী। এমনও হতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন উপস্থিতি দুর্বল হলে উত্তর কোরিয়া নিরস্ত হবে। এই প্রাথমিক বিশ্লেষণ থেকে বুঝতে পারা যায় খাদের প্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার কৌশল প্রয়োগ করে উত্তর কোরিয়া তার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সংহত করতে চায়। নিঃসন্দেহে উত্তর কোরিয়া বিরাট ঝুঁকি নিয়েছে। একথাও সত্য যে, ঝুঁকি না নিলে লাভও আশা করা যায় না। তাই আশা করতে চাই এ যাত্রায়ও পৃথিবী পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে পারবে।
বর্তমান বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের মহাবিস্ফোরণ নয় বরং অস্ফুট গোঙানির মধ্য দিয়ে ধ্বংসের পথে হাঁটছে। এই বিশ্ব পারমাণবিক অগ্নিঝড় এড়াতে পারছে অথবা পারছে সেই পারমাণবিক শৈত্যপ্রবাহকে এড়াতে যা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণের পর ঘটে থাকে। আমাদের আসল ভয়ের উৎস হল, আমরা পৃথিবীটাকে অবাসযোগ্য করে তুলছি। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে যুদ্ধের খাঁড়া আমাদের মাথার ওপর ঝুলছে। বর্তমান বিশ্বে যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো এ বিপদ এড়াতে সক্ষম নয়। রাসেল যেভাবে বলেছেন, সেরকম বিশ্ব সরকার জাতীয় কিছু একটার প্রয়োজন হবে। পারস্য সাম্রাজ্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কাছে নাজুক ছিল। রাজা ডেরিয়াসের প্রথম অভিযানের নৌবহরটি বসফোরাসের ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল। প্রকৃতি মানুষের ক্রিয়াকলাপে নাজুক হয়ে পড়েছিল। বন কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছিল এবং ভূমিক্ষয় হয়ে উঠেছিল অনিবার্য। কিন্তু এখন যে মাত্রায় মানুষের ক্রিয়াকলাপে প্রকৃতি নাজুক হয়ে পড়েছে এবং যে ব্যাপকতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা এখন মোকাবেলা করছি এর সবই মানুষের কর্মকাণ্ডের ফল। এডমান্ড বার্ক মার্কিন উপনিবেশকারীদের শক্তি ও সাহসের প্রশংসা করেছিলেন। তারা ছিল খামারি। বন সাফ করে তারা কৃষি জমি তৈরি করেছিল। গভীর সমুদ্রে তিমি শিকার করতে গিয়ে তারা উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মহাসমুদ্র পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করেছিল।
বিশ্বের যেসব জায়গায় বসতি গড়ে উঠেনি সেসব জায়গা অজানা ছিল। সেখানে প্রকৃতি ছিল এক ধরনের হুমকির উৎস অথবা এক ধরনের প্রেরণার উৎস; কিন্তু প্রকৃতিকে পোষ মানানো যায়নি। ১৭৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৫ থেকে ৯০ কোটি। সেই সময় বিশ্বের সম্পদ মনে হয়েছিল অফুরন্ত। অর্থনীতিবিদরা জানতেন বিশ্বের বসত স্থাপন করা এলাকাগুলোয়, বিশেষ করে সভ্য দেশগুলোয় সম্পদের প্রাচুর্য ছিল অলীক কল্পনামাত্র। ১৭৭৬ সালে এডাম স্মিথ তার Wealth of Nations গ্রন্থে আলোচনা করে দেখিয়েছেন যে আবাদযোগ্য ভূমির অভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। ভূমির ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদিকা শক্তি সম্পর্কে তখন অনেকেই বুঝেছিল। কিন্তু যেটি বোঝা যায়নি তা হল আমাদের এই গ্রহ সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যা ও ভোগের দিক থেকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক অর্থনীতিতে উৎপাদনশীল জমির অভাব সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। জাতিরাষ্ট্রের সীমান্তের বাইরে চাষের জমি বিস্তারের সুযোগ ছিল না। তবে উপনিবেশীকরণের মাধ্যমে সেই অভাব পূরণ করা সম্ভব হতো। বিশ্বের জনসংখ্যা বর্তমানে ৭০০ কোটি। এ জনসংখ্যা যদি ৯০০ কোটিতে পৌঁছায় তাহলে তা বিশ্বের ধারণক্ষমতার (Carrying Capacity) বাইরে চলে যাবে। বর্তমান বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষের মাথাপিছু ভোগের পরিমাণ ১৭৫০ সালের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে পরিবেশের ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়েছে। কোনো কোনো লেখক মনে করেন, প্রকৃতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমরা আমাদের চারপাশে এমন কিছু দেখি না, যা দেখে মনে হবে এটা সৃষ্টিকর্তার দান। এর মধ্যেই আমাদের বাসস্থান খুঁজে পেতে হবে, যার মাধ্যমে আমরা সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারব। এখন পরিবেশ বলতে বোঝায় তৈরি করা বাগান, আমরা বুঝতে চাই না প্রকৃতির নিঃসীম নীরবতাকে বশ করার চেষ্টা করছি। এ থেকে দুটি প্রশ্ন জাগে।
আমরা কি আমাদের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছি? অথবা এই প্রক্রিয়াকে থামানোর জন্য প্রয়োজন নতুন ধরনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান? প্রথম প্রশ্নের উত্তর হল ‘হ্যাঁ’, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সংশোধনের বাইরে চলে যায়নি। দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হল ‘না’। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তন যৌথভাবে প্রকৃতির যে ক্ষতি করেছে সে সম্পর্কে আশার বাণী শোনাতে পারবে না কেউ। এমনকি আগামী ৫০ বছর পরও না। প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয় দ্বিগুণ ভয়ের কারণ। একদিকে দুর্ভিক্ষ ও রোগের প্রাদুর্ভাবের বিপদ। অন্যদিকে হ্রাসমান সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাপকভাবে যে ধরনের সামরিক সংঘাত সৃষ্টি হবে তার ভয়াবহতা। পানি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এবং এশিয়া ও আফ্রিকার কোনো কোনো অঞ্চলে সামরিক সংঘাত সৃষ্টি হওয়া আমরা কল্পনা করতে পারি। তার চেয়েও সহজভাবে কল্পনা করতে পারি তেল সম্পদ নিয়ে সংঘাতের বিষয়টি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের বিপদ সৃষ্টি হচ্ছে সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য, নিছক ক্ষমতা বলয় বিস্তারের জন্য নয়। তবে ক্ষমতার বলয় বিস্তারের সঙ্গে সম্পদ নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক থাকতে পারে। পানি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধ উত্তর কোরিয়া সংকটের তুলনায় ভবিষ্যতের দিনগুলোতে কোনো অংশে কম ভয়াবহ হবে না। পানির অপর নাম জীবন। তাই পানি নিয়ে বিরোধ ঘটানো জীবনবিনাশী। শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানির যে ঘাটতি হয়, তা বাংলাদেশে জীবনের নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বাংলাদেশে পানি-ঘাটতি ঐতিহ্যগত নিরাপত্তার সঙ্গে ঐতিহ্যবহির্ভূত নিরাপত্তা সমস্যার সীমারেখা ক্রমশই যেন মুছে ফেলছে।
ড. মাহবুব উল্লাহ্ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

Post a Comment

 
Back To Top