Last Update

Monday, June 5, 2017

ওভালে প্রেরণা কার্ডিফ

সাইক্লোন, সন্ত্রাসী হামলা, আতঙ্ক শব্দগুলো বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে বেশ মানিয়ে গেছে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্রিসবেনের গ্যাবায় দু’দলের ম্যাচটি পণ্ড হয়েছিল সাইক্লোনে। একই বছর জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া। এবার ওভালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফিতে মুখোমুখি হওয়ার আগে শনিবার লন্ডনে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন ৬, আহত ৪৮। বরাবরই নিরাপত্তার ব্যাপারে ভীষণ স্পর্শকাতর অসিরা। কিন্তু ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বাইরের হামলা নিয়ে মাথাব্যথা নেই বাংলাদেশের। মাশরাফি মুর্তজাদের লক্ষ্য স্টিভেন স্মিথদের ওপর মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়া। একই মাঠে ইংল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নামার আগে বাংলাদেশ শুধু জয়ের জন্যই জপছে। সেমিফাইালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে জিততেই হবে। প্রথম ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে যে ভুলগুলো হয়েছিল সেগুলো শুধরে নিয়েই নামতে চায় টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি। খেলা দেখা যাবে গাজী টিভি, মাছারাঙা ও স্টার স্পোর্টসে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় দু’দলই এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। আজও এমনটা হলে দু’দল এক পয়েন্ট করে পাবে। কিন্তু তাতে আগ্রহ নেই বাংলাদেশের। তাদের মনে ২০০৫ সালের কার্ডিফ গৌরবগাথা ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা। অস্ট্রেলিয়াকে যেখানে দাপটের সঙ্গে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ইংল্যান্ডে আরেকটি লড়াইয়ের আগে পড়ে পাওয়া পয়েন্টে মন নেই মাশরাফি মুর্তজার দলের। ২০০৫-র পর কেটে গেছে একযুগ। সময়ের সঙ্গে কমেছে শক্তির ব্যবধান। তবে এখনও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সামনে বড় দলই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফিতে এই গ্রুপে অন্যতম ফেভারিট তারা।
তবে নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে যেকোনো দলকেই এখন হারাতে পারে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৫ রান করেও আট উইকেটে হারের পর নানা ভুল সামনে এসেছে। সেখানে একজন বোলার কম নিয়ে খেলার ঘাটতি বেশ অনুভব করেছিলেন মাশরাফি। আজ নিশ্চয়ই আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলার পরিকল্পনা থেকে ফিরে আসবে টিম ম্যানেজমেন্ট। বড় স্কোরের উইকেট হলে বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়। বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্যগুলো স্পোর্টিং উইকেট থেকেই বেশি এসেছে। প্রথম ম্যাচের পর তিনদিন বিশ্রাম পেয়েছে টাইগাররা। মাশরাফি বলেন, ‘বড় রানের ম্যাচ হলে আমাদের জন্য কাজটা কঠিন। যদি উইকেট একটু গ্রিপ করত, কিংবা যদি স্পোর্টিং হতো, ২৮০ বা ৩০০ রানের উইকেট হলে আমাদের দারুণ সম্ভাবনা থাকত। আমরা ওদের আটকে রাখতে বা তাড়া করতে পারতাম। কিন্তু সাড়ে তিনশ’র খেলা হলে আমাদের জন্য অনেক কঠিন।’ কঠিন মেনেই বোলারদের কাছ থেকে এই উইকেটেও সেরাটা চাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে পেসারদের কাছ থেকে অধিকাংশ বলই ইয়র্কার আশা করছেন মাশরাফি। দয়া-দাক্ষিণ্য না চেয়ে সরাসরি যুদ্ধ জয়ের আশা নিয়েই ঝাঁপাবে বাংলাদেশ! বার্মিংহামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ম্যাচই বাংলাদেশের প্রেরণা হতে পারে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই ইংল্যান্ডে এসেছে বাংলাদেশ। সেই কিউইরাই ৫৩ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। এ ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এ-গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ডই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। নিজেদের বোলিং বিভাগ নিয়ে অসন্তুষ্ট অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি তিনি ফাইনালের মতোই দেখছেন। স্মিথ বলেন, ‘দু’দলের কেউই আশা করছে না এই ম্যাচটাও পরিত্যক্ত হোক। এখন আমাদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই ফাইনাল হয়ে উঠেছে। এ রকম টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে বা হেরে গেলে সেখান থেকে ফিরে আসার সুযোগ কমই থাকে।’ এই ম্যাচে হেরে গেলে সেমিফাইনালের ওঠার লড়াই থেকে প্রায় ছিটকে যাবে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া হারলে তারাও অনেকটা পিছিয়ে যাবে।

Post a Comment

 
Back To Top